main

বেআইনি ইন্টারনেট ব্যবসা করছে ওলো

আইন ভঙ্গ করে তারবিহীন ইন্টারনেট-সেবা দিচ্ছে ওলো ওয়্যারলেস ইন্টারনেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। লাইসেন্স ও তরঙ্গ ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই এ প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু একাধিক প্রতিষ্ঠানের তরঙ্গ নিয়ে দিব্যি ইন্টারনেট ব্যবসা চালাচ্ছে ওলো।

 

টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী, ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তিতে (ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার অপারেবিলিটি ফর মাইক্রোওয়েভ এক্সেস) তারবিহীন ইন্টারনেট-সেবা দেওয়ার লাইসেন্স ও অনুমতি রয়েছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের। বাংলা লায়ন ও কিউবি লিমিটেড। পুরো বিষয়টি বেআইনি ও অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও এবং এ নিয়ে বিটিআরসির কাছে বারবার অভিযোগ করার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে বিটিআরসির কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই ব্যবসা চলছে।

 

রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্সের দাম ২১৫ কোটি টাকা। এছাড়া ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তারবিহীন ইন্টারনেট-সেবার মাধ্যমে আয়ের একটি নির্ধারিত অংশ সরকারকে লভ্যাংশ হিসেবে কোষাগারে জমা দেয়।

 

বাংলা লায়নের সূত্রে জানা গেছে, তারা বছরে সরকারকে ৬ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়। এর সঙ্গে রয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। আর তরঙ্গ বরাদ্দ ফি হিসেবে প্রতিবছরে বিটিআরসিকে দেয় ২০ কোটি টাকা। বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৩ কোটি টাকা। প্রায় একই ধরনের অর্থ কিউবিও সরকারকে দেয়। অথচ একটি টাকাও সরকারকে দেয় না ওলো তথা মাল্টিনেট। বরং এনজিজিএল ও বিআইইএলকে বরাদ্দ করা পৃথক তরঙ্গ বিনামূল্যে নিয়ে, তা একসঙ্গে ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাল্টিনেট।

 

বিটিআরসির তদন্ত : ওলোর অবৈধ ব্যবসা নিয়ে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।গত বছরের ৮ এপ্রিল মো. রকিবুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করে বিটিআরসি। ১০ দিনের অনুসন্ধান শেষে তারা প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে ওলোর অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে।

 

তবে বিটিআরসি তদন্ত, আদালতের নির্দেশ এত কিছুর পরেও ওলো বা মাল্টিনেট নির্বিঘ্নে ইন্টারনেট ব্যবসা করছে। অভিযোগ রয়েছে, এর সঙ্গে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা জড়িত।

 

ওলোর কার্যক্রম সর্ম্পকে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বাজারজাত কর্মকর্তা জহির উদ্দিন প্রাইম খবর ডটকম কে বলেন, ‘আমরা ওয়াইম্যাক্স সেবা দেই না। আমরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছি।’

তাদের এই ব্যবসার জন্য বিটিসিএল এর কাছ থেকে কোনো লাইসেন্স নিয়েছে কি না এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। পরে তাদের অফিসের একটি নাম্বার দিয়ে যোগাযোগের কথা বলেন। ওই নাম্বারে ফোন দিলে কেউ ফোন ধরেনি।

সুত্রঃ প্রাইম খবর

No comments yet.

Leave a Reply

Powered by WordPress. Designed by Woo Themes